1. bd35be9017d4c9453cd35cbbf143797e : admi2017 :
  2. editor@ajkergopalganj.com : Ajker Gopalganj : Ajker Gopalganj
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জে ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

শেখ জাবেরুল ইসলাম(বাঁধন)
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
  • ২৪০ বার পঠিত

আজকের গোপালগঞ্জ রিপোর্টঃ
গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলার ৪৬ টি ইউনিয়নের ৩২৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার পরিবার। জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে বন্যা কবলিত এলাকায় ১২০ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যা আক্রান্ত ১ হাজারেরও বেশি পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের মাঝে এ পর্যন্ত ২ শ’১০ মেট্রিকটন চাল , নগদ ৬ লাখ ৯০ হাজার নগদ টাকা ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল মারুফ এ তথ্য জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, আমার এ পর্যন্ত বন্যাকবলিত ৫ উপজেলার ৪৬টি ইউনিয়নের ৩২৫ টি গ্রামে ৫ লাখ পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছি। এ ছাড়া সেখানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য জানান, মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া অব্যাহত বর্ষণে জেলার বিল এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের ডিডি ড. অরবিন্দু কুমার রায় বলেন, গোপালগঞ্জে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তারপরও বিল এলাকা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। বিলের পানি খাল, নালা ও ডোবা দিয়ে নদীতে নামে। কিন্তু এখানে খালের নাব্যতা নেই। অনেক নালা ও ডোবার অস্তিত্ব অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে। এ কারণে অতিবৃষ্টি হলেই বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বন্যায় ১,৯৮৪ হেক্টর জমির আউশধান, সবজি, আমন ধানের বীজতলা ডুবে এ জেলার ৫ উপজেলায় ২০ কোটি ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বৈরাগী জানান, বন্যায় জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য সেক্টরে। এ জেলার প্রায় ৭ হাজার পুকুর ভেসে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ৬ হাজার মৎস্যচাষী।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমার ইউনিয়নে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি। ২ শ’ মাছের পুকুর ভেসে গেছে। প্রায় ৩৫ কিঃমিঃ গ্রামীন কাঁচাপাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমার ইউনিয়নে অন্তত ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনয়নের বাঘিয়ার বিলের রামনগর গ্রামের কৃষক খিতিশ বল্লভ (৬০) বলেন, ৭ দিন আগে পানি কমতে ছিলো। কিন্তু আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বিলের পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। বাড়িঘর ডুবে আছে। গরু-বাছুর, হাস-মুরগি ও পরিবার পরিজন নিয়ে কচুরির ধাপে আশ্রয় নিয়েছি। অনেক পরিবার বড় রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে।
একই উপজেলার রামনগর গ্রামের গ্রহবধূ লতিকা বাকচী (৫৬) বলেন, আনেক আগেই মাছের পুকুর ডুবেছে। সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তারপর বাড়িঘরে পানি উঠেছে। আঙ্গিনার সব সবজি গাছ মারা গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। এখন গবাদিপশু দিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছি। এসব পশুর খাবার নেই।
কোটালীপাড়া উপজেলার মাছবাড়ি গ্রামের নিত্যানন্দ বিশ্বাস (৬৫) বলেন, বন্যা আমাদের, মাছ, সবজি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে রয়েছে। বন্যায় এখন আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের গ্রামে সরকারি ত্রান দিচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
আজকের গোপালগঞ্জ বিল্ড ফর নেশনের একটি উদ্যোগ
Theme Developed BY ThemesBazar.Com