1. bd35be9017d4c9453cd35cbbf143797e : admi2017 :
  2. editor@ajkergopalganj.com : Ajker Gopalganj : Ajker Gopalganj
সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিক্ষকের ভয়ংকর  প্রতারণা!

শেখ জাবেরুল ইসলাম (বাঁধন)
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৭৭ বার পঠিত

আজকের গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক:

পেশায় স্কুল শিক্ষক হলেও, নেশা চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করে  অর্থ হাতিয়ে নেয়া। যার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে অসংখ্য বেকার, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। অনেকে চাকরির জন্য টাকা দিয়ে ফেরত চেয়ে উল্টো লাঞ্ছিত হয়েছেন, জেলও খেটেছেন। আবার চাকরি জন্য টাকা দিয়ে ফেরত না পেয়ে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক।  বিকাশ চন্দ্র দাস (৫০) নামে এক প্রতারক শিক্ষকের (ভগবান স্যার) খপ্পড়ে পড়ে তারা সর্বশান্ত হয়েছে । তিনি  কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক । পাশ্ববর্তী নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার করগাতি গ্রামের মৃত ঘাগর চন্দ্র দাসের ছেলে। বিকাশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা  ও আদালতে অন্তত ২ ডজন প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাৎ মামলা রয়েছে।   ওই শিক্ষক চাকরি দেয়ার কথা বলে ২৮ লাখ টাকা নিয়েও চাকরি না দিয়ে উল্টো গালিগালাজ ও অপমান করায় গত ৩০ আগস্ট কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া গ্রামের আশীষ কুমার মৈত্র (২৫) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় ওই যুবকের পিতা অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অসীম কুমার মৈত্র বাদী হয়ে ঘটনার দিন শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র দাসকে আসামী করে কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় স্কুল শিক্ষক বিকাশ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।

  মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষা কর্মকর্তার ছেলে আশীষ বিশ্বাসকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ২৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। চাকরি না দিয়ে টাকা ফেরত দিতে নানা তালবাহানা করে।  এমনকি ঘটনার দিন আশীষ নামে ওই যুবককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করে। আশীষ  মানসিক চাপ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজ ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে কথিত ভগবান শিক্ষক বিকাশ দাসের শিক্ষকতার চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রতারণার কথা বেরিয়ে আসতে শুরু করে।   তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র দাস ১৯৮৭ সালে কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া এলাকায় আসেন। সেখানে তিনি কোচিং ব্যবসা শুরু করে। ১৯৯৮ সালে রামদিয়ার ঠিকানা ব্যবহার করে রামদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কোচিং ব্যবসাকে চাঙ্গা করতে তিনি পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন স্কুলের সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তার কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের দিতেন। এভাবে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। সকলের কাছে তিনি ‘ভগবান স্যার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।  বিকাশ দাস ও তার স্ত্রী সুপ্রীতি দাস দু’জনে শিক্ষকতা করেন। এ শিক্ষকতাকে পুঁজি করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী, খুলনার ডুমরিয়া, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, ফুলতলা, বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও নড়াইলের লোহাগড়া, কালিয়া উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে অন্তত ২৫টি ভূয়া ‘নিয়োগপত্র’ দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি চাকরির জন্য টাকা দিয়ে ফেরৎ চাইতে গিয়ে জেলও খেটেছেন অনেকে। চাকরি দেয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পর ঠুকে দেন মিথ্যা মামলা। ওই এলাকায় বিকাশ দাসের রয়েছে একটি ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী। বিকাশ দাসকে কেউ কিছু বললে এ বাহিনীর হাতে নাজেহাল হতে হয়।

কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোক্তার হোসেন বলেন, বিকাশ চন্দ্র দাস শিক্ষক নামের একজন প্রতারক। কাশিয়ানী তথা শিক্ষক সমাজের জন্য কলংক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। চাকরি দেয়ার নামে ভূয়া ২৫টি নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চাকরি দেয়ার নামে সে টাকা হাতিয়ে নেয়। চাকরি না পেয়ে তারা টাকা ফেরত চাইলেই মামলা দিয়ে তাদের হয়রানী করাই তার নেশা। সে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি চাকরি দেয়ার কথা বলে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, প্রায়ই বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন আমাদের স্কুলে বিকাশ স্যারকে খুঁজতে আসেন। এ সময় তিনি ক্লাস ফেলে স্কুল থেকে পালিয়ে যান। একবার স্কুলের জানালা দিয়ে পালাতে গিয়ে পড়ে হাত ভেঙে আহতও হয়েছিলেন তিনি।  রামদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিরোজা বেগম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিকাশ চন্দ্র দাস শিক্ষক সমাজকে কলুষিত করছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু তাকে ম্যানেজিং কমিটির সাপোর্টের কারণ আমার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয় না। তবে আমি বিষয়টি ইউএনও এবং শিক্ষা অফিসারকে  জানিয়েছি।  কাশিয়ানী থানার ওসি মোঃ আজিজুর রহমান জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফরিদপুর, নড়াইল, খুলনা ও গোপালগঞ্জের থানা ও কোর্টে ২ ডজন প্রতারণা মামলা রয়েছে।  কাশিয়ানী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমি বিকাশ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছি। তিনি শিক্ষক সমাজের কলংক। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
আজকের গোপালগঞ্জ বিল্ড ফর নেশনের একটি উদ্যোগ
Theme Developed BY ThemesBazar.Com