1. bd35be9017d4c9453cd35cbbf143797e : admi2017 :
  2. editor@ajkergopalganj.com : Ajker Gopalganj : Ajker Gopalganj
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

ডা. রমানাথ বিশ্বাস আর নেই

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৬১ বার পঠিত

আজকের গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক:
মানবতাবাদী ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার ধারক-বাহক গোপালগঞ্জের বাম রাজনীতির পুরোধা মুক্তিযোদ্ধা ডা. রমানাথ বিশ্বাস পরলোকগমন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গত ২ অক্টোবর বিকেলে গোপালগঞ্জ শহরের চৌরঙ্গীর নিজবাড়িতে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে গোপালগঞ্জ আড়াইশ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল থেকে গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রæত তাকে এভার কেয়ার হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। বেশকিছুদিন ধরে তিনি বার্ধক্য জনিত জটিলতায় ভ‚গছিলেন।
গোপালগঞ্জ জেলা বিএমএ, কমিউনিস্টপার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী গোপালগঞ্জ জেলা সংসদ , গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালীবাড়ি ও খাটরা সার্বজনীন কালীবাড়িসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক পেশাজীবী ও শ্রমজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
বুধবার সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হবে। সেখানে তাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হবে। এরপর পৌর-মহাশ্মশাণে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
৫২’র ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রমানাথ বিশ্বাস ছাত্রজীবনেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে। ১৯৬০ সালে ঢামেক থেকে এমবিবিএস পাশ করে কিছুদিন সেখানেই গাইনী বিভাগের এসিস্ট্যান্ট সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালেও এসিস্ট্যান্ট সার্জন হিসেবে চাকুরী করেন। ১৯৬২ সালে তিনি সাব-ডিভিশনাল মেডিকেল অফিসার হিসেবে দিনাজপুরে যোগ দেন। পরের বছরই বদলী হয়ে আসেন গোপালগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে। এসেই তিনি পাকিস্তান মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন গোপালগঞ্জ মহকুমা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরইমধ্যে মাওলানা ভাসানীর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে যোগ দেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ)। ১৯৬৮ সালে তিনি পটুয়াখালীতে বদলী হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসার কথা ভেবে চাকরি ছেড়ে গোপালগঞ্জেই প্রাইভেট প্রাকটিস শুরু করেন। ওই বছরই তিনি অভিভক্ত ন্যাপের গোপালগঞ্জ মহকুমা সভাপতির দায়িত্বভার পান। সে দায়িত্ব পালন করেন দু’ যুগেরও বেশি। তাঁর সৌজন্যবোধ ও সহানুভ‚তিশীলতায় স্বাধীনতাপূর্ব গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে বাম রাজনীতি এক অনন্য মাত্রা পায়। প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনায় মানুষকে উজ্জীবিত করার কারণে তিনি সত্তরের দশকে মৌলবাদের রোষানলেও পড়েন। তারপরও বিশ্বজনীন মানবতাকে প্রাধান্য দিয়ে মানব-ধর্ম প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরন্তর চেষ্টা চালিয়েছেন। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিািন গোপালগঞ্জ আসন থেকে ন্যাপের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। সে নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেনের কাছে পরাজিত হন।
কমরেড মনি সিং, অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, প্রফেসর মোজাফ্্ফর আহম্মেদ, সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্ত ও পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য সহ অসংখ্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের সান্নিধ্য ও আনুকুল্য পেয়েছেন তিনি। গোপালগঞ্জের এ্যাড. সরদার নওশের আলী, এ্যাড. নুরুজ্জামান খোকন, কমরেড আবু হোসেন, ওয়ালিউর রহমান লেবু মিয়া, কমলেশ বেদজ্ঞ, শওকত চৌধুরী, রেফাউল হক মঞ্জু, লুৎফর রহমান গঞ্জর, রবু খান, প্রমুখ ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা।
বঙ্গবন্ধু ’র ৭ই মার্চের আহবানে সারা দিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে ট্রেনিং গ্রহন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে শরণার্থীদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার করেছেন। সে সময় তাঁর প্রদত্ত ফিটনেস সার্টিফিকেটধারীরা বিভিন্ন ক্যাম্পে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ন্যাপের (মোজাফ্ফর) প্রার্থী হিসেবে পার্লামেন্ট নির্বাচণে অংশ নেন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোল্লা জালাল উদ্দীন আহম্মেদের কাছে তিনে হেরে যান।
মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট স্ব-পরিবারে হত্যার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জের বাম সংগঠনগুলোর প্রতিটি আন্দোলনে তিনি অগ্রনী ভ‚মিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অবহেলিত জনপদ গোপালগঞ্জের মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।
৮০’র দশক পর্যন্ত গোপালগঞ্জে দু’জন এমবিবিএস ডাক্তারের তিনি একজন। রাত-বিরেতে তিনি দূর-দূরান্তে ছুটে গিয়েছেন অসুস্থ মানুষের পাশে। কেউ চিকিৎসা-ফি দিতে না পারলে তাকে ঔষধ কিনে দিয়ে যাতায়াত ভাড়াও দিয়ে দিতেন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত পাকিস্তান মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের গোপালগঞ্জ মহকুমা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত তিনি জেলা বিএমএ’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ডা. রমানাথ বিশ্বাস ছিলেন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সার্বজনীন চেতনার পৃষ্ঠপোষক। বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যাপক (বাংলা) মহেন্দ্রলাল বিশ্বাস সহ গোপালগঞ্জের সাহিত্যপ্রেমী সুশীল সমাজ নিয়ে মধুচক্র সাহিত্য সভা নামে একটি সংগঠন গড়েছিলেন। সার্বজনীন অনুষ্ঠান পালনে তাঁর ছিল বিশেষ আগ্রহ। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাঁর প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা ছাপা হয়েছে। স্বামীজির মানব-ধর্ম পালনের প্রতি তাঁর ছিল বিশেষ অনুরাগ। মানবতাবাদকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি ২০০৯ সালে ‘মানব ধর্ম’ নামে দু’খন্ডের একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এক যুগেরও বেশী সময় ধরে তিনি গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালীবাড়ি কমিটির সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীদের চিকিৎসা-সেবাদানসহ জীবনের দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় স্বাস্থ্য-সেবায় সুদীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড ও বিএমএ ’এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

One response to “ডা. রমানাথ বিশ্বাস আর নেই”

  1. হরেন্দ্র নাথ মন্ডল । says:

    চিকিৎসা সেবা সহ মানব সেবায় ডাঃ রমানাথ বিশ্বাসের অবদান অপরিসীম । আমি তার বাসায় গৃহশিক্ষক ছিলাম ।
    তার সাথে রাজনীতি করেছি , অনেক স্মৃতি ।
    গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
আজকের গোপালগঞ্জ বিল্ড ফর নেশনের একটি উদ্যোগ
Theme Developed BY ThemesBazar.Com