1. bd35be9017d4c9453cd35cbbf143797e : admi2017 :
  2. editor@ajkergopalganj.com : Ajker Gopalganj : Ajker Gopalganj
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

 বিধবার জায়গা দখলের অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

শেখ জাবেরুল ইসলাম(বাঁধন)
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৯৯ বার পঠিত

আজকের গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর জায়গা জোর করে দখলের অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আমীনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। বদরুল আমীন পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্যানাখালি গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন হাওলাদারের ছেলে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মিঞ্জিল শেখের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী বিধবা সামচুন নাহার এ অভিযোগ করেছেন।
সামচুন নাহার বলেন,আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ২টি বিয়ে করেন। আমার স্বামীর ১ম স্ত্রীর এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। আমার দুই ছেলে, দুই মেয়ে আছে। মৃত্যুর সময় তিনি ১৮ শতাংশ বাড়ির জায়গা রেখে যান। তার মৃত্যুর পর মুসলীম ফরায়েজ আইন মোতাবেক সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা হয়। আমার স্বামীর ১ম স্ত্রী কোহিনুর বেগম ৮.২৮ শতাংশ সম্পত্তি পান। আমি ৯.৭২ শতাংশ সম্পত্তির অংশীদার হই। দীর্ঘদিন এভাবেই ওই সম্পত্তি আমরা ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু কিছুদিন আগে কোহিনুর ও তার ছেলে মেয়েরা তাদের সম্পত্তির সব অংশ পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার প্যানাখালী গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা বদরুল আমীনের কাছে বিক্রয় করে। বদরুল ওই জায়গা ক্রয়ের পর জোর করে আমার জায়গা সহ পুরো ১৮ শতাংশ জমিতে বালি ভরাট করে। তারপর থেকে তারা আমার স্বামীর জায়গা থেকে আমাকে ও আমার সন্তানদের উৎখাতের চেষ্টা করছে।
মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামচুন নাহার আরো অভিযোগ করে বলেন, বদরুল ও তার শ্যালক টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাশবাড়িয়া গ্রামের রাজু ও সাজ্জাদ তালুকদার সহ তাদের লোকজন বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) আমার জায়গার চারিদিকে বেড়া দেয় ও আমার স্বামীর রেখে যাওয়া ঘর ভাংচুর করে। তারা আমার মেয়ে রেখাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের জানালেও তারা কোন সহায়তা বা পদক্ষেপ নেননি। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) বদরুলের ভাড়াটে মাস্তানরা পুনরায় এসে সেই ঘরটি সম্পূর্ন ভেঙ্গে দেয়। সেই জায়গায় তারা একটি ঘর নির্মাণ করে জায়গা দখল করেছে।
মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে রেখা আক্তার বলেন, টুঙ্গিপাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মস্থান। এখানে একজন মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে এভাবে উৎখাত করা হচ্ছে। এগুলো কারো চোখে পড়ছেনা। কারো কাছে গিয়ে সঠিক বিচার পাইনি। তাই আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা বদরুল আমীনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি উৎখাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি যতটুকু সম্পত্তি ক্রয় করেছি, ততটুকুই আমি ভোগদখল করছি। বালু ভরাট করতে গেলে অন্যের জায়গায় বালু যেতে পারে। মুক্তিযোদ্ধার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর অভিযোগ সত্য নয়। জোরকরে ঘর ভাঙ্গা ও বিধবার জায়গা দখল সম্পর্কে জানতে চাইলে সরকারি এ কর্মকর্তা বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি। পরে আপনাদের সাথে সাক্ষাতে কথা বলবো।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি এএফএম নাসিম বলেন, ঘর ভাঙ্গার বিষয়টি শুনেছি। যাতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে সেজন্য দুই পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
আজকের গোপালগঞ্জ বিল্ড ফর নেশনের একটি উদ্যোগ
Theme Developed BY ThemesBazar.Com