1. bd35be9017d4c9453cd35cbbf143797e : admi2017 :
  2. editor@ajkergopalganj.com : Ajker Gopalganj : Ajker Gopalganj
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

টুঙ্গিপাড়ায় জাল কাগজে দলিল সম্পাদন

শেখ জাবেরুল ইসলাম (বাধন)
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১
  • ২৫১ বার পঠিত

আজকের গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তথ্য গোপন করে জাল কাগজ দিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টুঙ্গিপাড়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একটি দলিল সম্পাদন করা হয়। দলিল নম্বর- ২২৯৩। ওই দলিলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া মৌজার আরএস ও এসএ ২৭০ ও ২৭৪ নং দাগের হাল বিআরএস ৬৮৭ নং দাগে ৪১ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ জমি লেবুতলা গ্রামের জামাল মোল্লা ও কেপেল মোল্লা দাতা সেজে পাকুরতিয়া গ্রামের সোহরাব হোসেনের মেয়ে জিবন্নাহার জুইয়ের নামে সাব কবলা করে দেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সবুজ মোল্লা বলেন, আমার পিতা রোকনউদ্দিন মোল্লা লেবুতলা গ্রামের ইউসুফ আলী মোল্লা গং এর কাছ থেকে ৪১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় জমি দলিল করা হয়নি। ইউসুফ মোল্লা গং মাঠ জরিপে আমার পিতা রোকনউদ্দিন মোল্লার নামে ওই জমি বিআরএস রেকর্ড করিয়ে দেন। আমরা দীর্ঘদিনধরে ওই সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছি। হঠাৎ করে সোহরাব মোল্লার লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে জমি দখলের পায়তাড়া করে। তখন তাদের মাধ্যমে জানতে পারি ইউসুফ মোল্লার ছেলে জামাল ও কেপেল মোল্লা আমার পিতার নামের বিআরএস পর্চা জাল করে তাদের নাম বসিয়ে পাকুরতিয়া গ্রামের সোহরাব হোসেনের মেয়ে জিবন্নাহার জুইয়ের কাছে ৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেছে। দলিল করার সময় তারা তাদের নামে জাল দাখিলাও জমা দেন। সবুজ আরো জানায়, জামাল ও কেপেল জাল পর্চা ও দাখিলা তৈরি করে মোহরার জুয়েল ও সাবরেজিস্টার মোঃ মিল্লাত হোসেনের যোগসাজে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দলিল সম্পাদন করে।

রোকনউদ্দিনের কাছে জমি বিক্রয়কারী ইউসুফ মোল্লার ভাইয়ের ছেলে রাসেল ও রাজীব মোল্লা জানান, তার বাবা ও চাচারা রোকনউদ্দিন মোল্লার কাছে ৪১ শতাংশ জমি বিক্রি করে। পরে রোকনউদ্দিনের নামে রেকর্ড করিয়ে দেন। কিন্তু সোহরাব মোল্লার ব্যাক্তিগত আক্রোশ থাকায় আমার চাচাতো ভাই জামাল ও কেপেলকে দিয়ে সোহরাব মোল্লা তার মেয়ে জিবন্নাহার জুইয়ের নামে জমি লিখিয়ে নিয়েছেন ।

এ বিষয়ে ৫ শতাংশ জমির দাতা জামাল ও কেপেলের কাছে ভূয়া পর্চা ও দাখিলার সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা অশিক্ষিত মানুষ। দলিল পর্চা সম্পর্কে তেমন কিছু বুঝিনা। মাঠে কাজ করা অবস্থায় সোহরাব মোল্লা আমাদের দুই ভাইকে উপজেলায় গিয়ে জমির দলিলে সই করতে বলে। তখন প্রযোজনীয় কাগজের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহরাব বলে তোমরা শুধু সই করে চলে আসবে, কাগজপত্র সব জোগার করা আছে। তখন ১ লক্ষ টাকা দিয়ে জমির দলিলে সই নেয়। জিবন্নাহার জুইয়ের বাবা সোহরাব মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি জামাল ও কেপেলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমি বিক্রি করেছে। জাল দাখিলা ও পর্চা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

টুঙ্গিপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেদারুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে এরকম কোন দাখিলা দেয়া হয়নি। এছাড়া পর্চা ঘসামাজা করে অন্যের নাম বসানো হয়েছে। ফলে পর্চা ও দাখিলা জাল বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।

টুঙ্গিপাড়ার সাবরেজিস্ট্রার মো. মিল্লাত হোসেন এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জমির দাতা তথ্য গোপন করে এ দলিল করিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ছোট ডুমুরিয়ার একটি কম্পিউটারের দোকন থেকে জাল পর্চা ও দাখিলা সৃজন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। জমির গ্রহিতা জুয়ের পিতা সোহরাব, মোহরার জুয়েল এ ঘটনায় জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
আজকের গোপালগঞ্জ বিল্ড ফর নেশনের একটি উদ্যোগ
Theme Developed BY ThemesBazar.Com