1. bd35be9017d4c9453cd35cbbf143797e : admi2017 :
  2. editor@ajkergopalganj.com : Ajker Gopalganj : Ajker Gopalganj
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

ভিক্ষা ছেড়ে সরকারি ফ্যাক্টরীতে চাকরি পেল ৪৩ জন 

শেখ জাবেরুল ইসলাম (বাঁধন)
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ১৩৯ বার পঠিত

আজকের গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক

ভিক্ষা ছেড়ে মুজিববর্ষে গোপালগঞ্জে প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি ‘অবলম্বনে’ চাকরি পেয়েছেন ৪৩ জন ভিক্ষুক। ভিক্ষুকরা ওই ফ্যাক্টরীতে ২ মে থেকে চাকরি জীবন আরম্ভ করেছেন। ভিক্ষুকের হাত কর্মীর হাতে পরিনত হয়েছে। এ উদ্যোগ সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণিকে উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় সামিল করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসন প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যায়ে কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামে প্যাকেজিং ফ্যাক্টরী ‘অবলম্বন’ বাস্তবায়ন করেছে।

শনিবার দুপুরে প্রধান অতিথি গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা ফিতা কেটে ও ফলক উম্মোচন করে প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি ৪৩ ভিক্ষুকের হাতে নিয়োগপত্র ও আইডি কার্ড তুলে দেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম মাহফুজুর রহমান বলেন, মুজিববর্ষে আমরা উদ্ভাবণী কিছু করার উদ্যোগ গ্রহনকরি । চৌরখুলী গ্রামের ৪৩ নারী-পুরুষ জন্ম-জন্মান্তরে ভিক্ষাবৃত্তি পেশার সাথে জড়িত । বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও তাদেরকে এ পেশা থেকে নিবৃত্ত করা যায় নি। তাই তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ মাস কাজ করে প্যাকেজিং ফ্যাক্টরী নির্মাণ করেছি। ১ মে ওই গ্রামের ৪৩ জন ভিক্ষুক ভিক্ষা ছেড়ে ফ্যাক্টরির কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছে। এর আগে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা ২ মে এখানে কাজ শুরু করেছেন । প্রতি মাসে প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হবে। এছাড়া প্যাকেজিং সামগ্রী বিক্রির একটি লভ্যাংশ তারা পাবেন। কোটালীপাড়ায় প্যাকেজিং পন্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্যবসা সম্প্রসারিত হলে তাদের আয় আরো বেড়ে যাবে। স্বচ্ছলতার সাথে তারা দিন কাটাবেন। এতে করে তাদের সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি পাবে। এটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃস্টি করা সম্ভব হবে। এ পথেই দেশ একদিন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, মুজিববর্ষের এ উদ্ভাবণী পরিকল্পনায় পরিবর্তন ঘটেছে চৌরখুলী গ্রামের, পরিবর্তন হয়েছে কোটালীপাড়ার। এভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েই আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। একদিনেই হয়তো এটা হবে না, তবে একদিন হবেই নিঃসন্দেহে!

কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র হাজী কামাল হোসেন শেখ বলেন, ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। ভিক্ষুকরা এখন আর বোঝা নয়, ববং জনশক্তি। সেটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখিয়ে দিয়েছেন।

কুশলা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল বলেন, এটি দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এ জাতীয় উদ্যোগ আমাদের দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত ও উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত করবে। প্রকল্পটি দেশকে ভিক্ষুক মুক্ত করার মডেল।

চৌরখুলী গ্রামের ভিক্ষুক আকমানি বেগম, মমতাজ বেগম, ঝর্না বেগম বলেন, ৩ হাজার টাকা বেতন ও লভ্যাংশ দিয়ে সংসার চালাতে প্রথম একটু কষ্ট হবে। তারপরও আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার মানুষ হিসেবে দেশের জন্য কিছু একটা করতে চাই। যা দেখে অন্যরাও এটি গ্রহন করবে। আমরা আর পিছিয়ে থাকবো না। দেশের বোঝা হবো না। এখানে বেশিবেশি পন্য উৎপাদন করে আয় বৃদ্ধি করে ভালভাবে সংসার চালাবো। দেশের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবো।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের সামাজিক ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সব শ্রেণি পেশার মানুষকে উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় সামিল করতে হবে। সে ধারাবাহিকতায় আমরা মুজিববর্ষে ৪৩ জন ভিক্ষুকের হাতকে কর্মীর হাতে পরিনত করেছি। তারা দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
আজকের গোপালগঞ্জ বিল্ড ফর নেশনের একটি উদ্যোগ
Theme Developed BY ThemesBazar.Com