1. bd35be9017d4c9453cd35cbbf143797e : admi2017 :
  2. editor@ajkergopalganj.com : Ajker Gopalganj : Ajker Gopalganj
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

২০ বছরেও বিচার শুরু হয়নি গীর্জায় বোমা হামলার ঘটনায়

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১
  • ১৯২ বার পঠিত
আজকের গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গীর্জায় বোমা হামলার বিচার দীর্ঘ ২০ বছরেও শুরু করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিচারের জন্য আর কত দিন অপেক্ষা করবেন এমন প্রশ্ন তুলেছেন। দ্রুত এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন তারা।
বোমা হামলার ঘটনায় নিহত সুমন হালদারের বাবা শুখরঞ্জন হালদার বলেন, ‘এ ঘটনায় ঘটনায় দায়েকৃত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২২ বার বদল হয়েছে। এ কারণে সিআইড অভিযোগ গঠন করেনি। ফলে আদালত বিচার কাজ শুরু করতে পারছেনা। আমরা বিচারের জন্য আর কত কাল অপেক্ষা করবো। আমি দ্রুত এ বোমা হামলার বিচার চাই।’ তিনি জানান, ‘২০০১ সালের ৩ জুন বানিয়ারচর ক্যাথলিক গীর্জায় সাপ্তাহিক প্রাথর্না চলাকালে বোমা হামলায় প্রার্থনারত ১০ জন নিহত হন। আহত হন অর্ধ-শতাধিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। নিহতরা হলেন, রক্সিড জেত্রা, বিনোদ দাস, মন্মথ সিকাদার, সঞ্জীবন বাড়ৈ, পিটার সাহা, অমর বিশ্বাস, সতীশ বিশ্বাস, ঝিন্টু মন্ডল, মাইকেল মল্লিক ও সুমন হালদার।
ক্যাথলিক গীর্জায় বোমা হামলায় নিহত সঞ্জীবন বাড়ৈর পিতা বিজেন্দ্র বাড়ৈ বলেন, আমরা এখন ক্লান্ত।সেই ২০০১ সাল থেকে বিচার চেয়ে আসছি কেউ আমাদের দাবি শোনে না। ওই বৃদ্ধ বয়সে কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। টাকা নাই পয়সা নাই, খাইয়া না খাইয়া বাইচ্চা আছি। এখন আর কেউ হাওলাদ দিতে চায়না। ছোয়ালডা ( ছেলে) বাইচা থাকলে হয়তো এত কষ্ট করতে হতো না। ছোয়ালডা মরলো, তার বিচারডাও পাইলামনা। দেশে কত বিচার হচ্ছে। আমাগো বিচারডা কি দোষ করছে। মইরাতো যাবো, তার আগে আমার ছেলেসহ ১০জনের হত্যা কারির বিচারডা দেখতে চাই। বিচারডা হইলে মইরাও শান্তি পাইতাম। এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় ওই গির্জার তৎকালীন ফাদার পিতাঞ্জা মিম্মো বাদী হয়ে হত্যা ও বানিয়ারচরের বাসিন্দা পিটার বৈরাগী বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। মামলা ২টিতে ৩৭ জনকে আসামী করা হয়। থানা থেকে মামলা দু’টিকে তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। দু’ মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জেহাদ নেতা মুফতি মাও. আব্দুল হান্নান মুন্সির ফাঁসি অন্য মামলায় কার্যকর হয়েছে। এছাড়া এ মামলার ১২ আসামি জামিনে রয়েছে। পলাতক রয়েছেন ৬ জন ও কারাগারে রয়েছেন ৭ আসামি।’
মুকসুদপুরের বানিয়ারচর গীর্জার ফাদার জেরম রিংকু গোমেজ বলেন, করোনার মধ্যে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় মতে আমরা প্রার্থণাসভা সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রার্থণা, শোভাযাত্রা, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন। ২০ বছর পার হলেও এ ঘটনার বিচার শুরু করা হয়নি। নিহতদের স্বজনরা ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আমি দ্রুত এ ঘটনায় চার্জশীট আদালতে দাখিল করে বিচার শুরুর দাবি জানাচ্ছি।’
গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. সুভাষ চন্দ্র জয়ধর বলেন,‘ সিআইডি তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দিলেই বিচার শুরু হবে। ঘটনার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও সিআইড এ মামলার চার্জশীট দাখিল করতে পারেনি।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুন্সি আসাদুজ্জামান বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
আজকের গোপালগঞ্জ বিল্ড ফর নেশনের একটি উদ্যোগ
Theme Developed BY ThemesBazar.Com